দৈনিক ‘আজাদ’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন মওলানা আকরাম খাঁ। নজরুলও একসময় এই পত্রিকায় কাজ করেছেন। কিন্তু পত্রিকার ধর্মীয় গোড়ামির কারনে তিনি এখানে লেখালেখি ছেড়েছিলেন। মওলানা আকরাম খাঁর স্ত্রী ছিলেন আবার নজরুলের দারুণ ভক্ত। নজরুল তাকে মা বলে ডাকতেন। একদল মওলবী-মওলানা লোক নজরুলকে নাস্তিক, কাফের ডাকতো এটা ওনি পছন্দ করতেন না। তিনি একদিন মওলানা আকরাম খাঁ'কে বললেন, "আপনি ডাকুন আপনার ঐ মওলবীদের। আমিও নজরুলকে ডাকি। সামনাসামনি প্রমাণ হয়ে যাক কার কথা সত্যি।" আকরাম খাঁ একদিন মওলবী সাহেবদের বাসায় দাওয়াত দিলেন। তার স্ত্রীও নজরুলকে একই দিনে বাসায় আসতে বললেন। মওলবী সাহেবরা আসার পর ওনার স্ত্রী তাদের কে নাস্তা পাঠিয়ে বলেন, "আপনারা খান নজরুলও এরমধ্যে এসে পড়বে"। মওলবী সাহেবেরাও খুশী মনে খাচ্ছেন। এমন সময় উদাত্ত পুরুষালি কন্ঠে গাওয়া মধুর গজলের শব্দ ভেসে এলো। খালি গলায় যেনো একজন গেয়ে উঠলেন, "তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে, যেনো পূর্নীমারই শিশু চাঁদ দোলে, যেন ঊষার কোলে রাঙা রবী দোলে"। এই মধুর গজলগীত শুনে মওলবী সাহেবেরা আত্মহারা হয়ে গেলেন। গজল শেষে আকরাম খাঁর স্ত্রী তাদের জিজ্ঞেস করলেন, " ভাই আলেম সাহেবরা এই গজল যিনি লিখেছেন তার সম্পর্কে আপনাদের মত কি...?" সকল মওলবী সাহেব এক বাক্যে বললেন "পরম পণ্যবান লোক। এককথায় তিনি জান্নাতুল ফেরদৌসে চলে যাবেন।" আকরাম খাঁ'র স্ত্রী তখন বলে উঠলেন, তাহলে আপনারা তাকে কাফের বলছেন কেনো? তার বিরুদ্ধে লেখালেখি করছেন কেনো? জানেন ইনি কে? ইনিই কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি নিজেই তার গজল আপনাদের গেয়ে শোনালেন।" এই কথা শোনার পর মওলবী সাহেবেরা একেবারে চুপ তারা একে অন্যের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন।
চুরুলিয়ার এই কবি এপার বাংলা ওপার বাংলা দুদিকেই আজ সমানে সমাদৃত। দেশভাগের পর দুই দেশের বেড়ে উঠা কাঁটাতার নজরুলকে আটকাতে পারেনি কিছুতেই শ্রী অন্নদাশঙ্কর রায় একদা ছড়া কেটে তাই বলেছিলেন....
"ভুল হয়ে গেছে বিলকুল-
আর সবকিছু ভাগ হয়ে গেছে,
ভাগ হয়নিকো নজরুল।
এই ভুলটুকু বেঁচে থাক,
বাঙালি বলতে একজন আছে-
দুর্গতি তার ঘুচে যাক্।"
দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের মহা প্রয়ান দিবসে জানায় গভীরে শ্রদ্ধাঞ্জলি।
তথ্য সংগ্রহঃ- ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা, আব্দুল গাফফার চৌধুরী।
0 Comments